• মঙ্গল. এপ্রি ২০, ২০২১

অনুসন্ধানবার্তা

অজানাকে জানতে চোখ রাখুন

আলো-আঁধারে সম্ভাবনার পর্যটন টাঙ্গন ব্যারেজ

Byonushondhanbarta

মার্চ ১৩, ২০২১
0 0
Read Time:6 Minute, 29 Second

আপেল মাহমুদ, রুহিয়া (ঠাকুরগাঁও) সংবাদদাতাঃ

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমাদের ছোট নদী’ কবিতাটি স্কুলপাঠ্য ছিল। কবি লিখেছিলেন: ‘আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে, বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে।’ কবিতার সাথে শতভাগ মিলে যায় সৌন্দর্যে মুগ্ধ করা টাঙ্গন বাংলাদেশ-ভারতের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী। এটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। টাঙ্গন পুনর্ভবা নদীর একটি উপনদী। শীতকালে নদীর পানি কমে গেলেও বর্ষাকালে নৌ যোগাযোগের উপযুক্ত থেকে।

প্রতিবছর ভরা মৌসুমে মৎস্য বিভাগের আওতায় টাঙ্গন নদীর উপর নির্মিত টাঙ্গন ব্যারেজের প্লাবন ভূমিতে সরকারিভাবে মাছ অবমুক্ত করা হয়। তিন মাস পর ব্যারেজের গেট খুলে দিলে এখানে শুরু হয় পাঁচ দিনব্যাপী মাছধরার উৎসব। পঞ্চগড়, দিনাজপুর নীলফামারীসহ বিভিন্ন জেলার মাছ শিকারীরা এখানে এসে তাবু গেঁড়ে, কেউ কলাগাছের ভেলায় আবার কেউ নৌকা করে বিস্তির্ণ এলাকায় মাছ শিকার করেন। প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়।

টাঙ্গন নদীর তীরে অবস্থিত ঠাকুরগাঁও শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার উত্তরে রয়েছে টাঙ্গন ব্যারেজ। বেবি টেক্সি, অটো বাইক ও মাইক্রো নিয়ে এখানে আসা যায়। নদীর পানি আটকিয়ে উজানে সৃষ্টি হয় নয়নাভিরাম দৃশ্যের। শহরের লোকজন অবসরের অবসাদ কাটাতে ছুটে যান টাঙ্গন ব্যারেজ এলাকায়। ভ্যানে চড়ে কিংবা পায়ে হেঁটে উপভোগ করা যায় টাঙ্গন ব্যারেজ এলাকার অপরূপ সৌন্দর্য্য। এখানে সুন্দর একটি ডাকবাংলো রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি এরশাদের আমলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলাধিন রুহিয়া থানার ১৪নং রাজাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের চাপাতি গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া টাঙ্গন নদীতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে টাঙ্গন ব্যারেজটি ১৯৮৪-১৯৮৫ সালে বাস্তবায়ন কাজ শুরু করে ১৯৯০ সালের ২০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়। প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল প্রকল্প এলাকায় আমন মৌসুমে সেচ সুবিধা প্রদান করা। প্রকল্পের আওতাভুক্ত জমির পরিমাণ ৬০৭০ হেক্টর এবং পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন থানার প্রায় ৫,০০০ হেক্টর জমিতে সেচের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়েছে টঙ্গন ব্যারাজের জন্য। ব্যারাজে পানি নির্গমন হওয়ার ক্ষমতা প্রতি সেকেন্ডে ২৮৭ ঘনমিটার।

পৃথিবীর তৃতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘায় সকালের কাঁচা রোদ পড়ে চকচক করা অপরূপ সৌন্দর্য দেখা যায় টাঙ্গন ব্যারাজ থেকে।

টাঙ্গন ব্যারাজ থেকে ২৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে শুরু হয়েছে ৩৫ কিলোমিটার টাঙ্গন নদী খনন কাজ। যদিও গত এপ্রিল ২০২০ মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল কিন্তু হয়নি। ইতিমধ্যে ২৯৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে টাঙ্গন ব্যারেজসহ ঠাকুরগাঁওয়ের কয়েকটি সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন, নদী সংরক্ষণ ও সম্মিলিত পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো নির্মাণে একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। কাজ শেষ হলে পূর্ণতা পাবে টাঙ্গনের মুগ্ধ করা সৌন্দর্য।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক গ্রুপ টাঙ্গন ব্যারাজের এডমিন আয়েশা সিদ্দিকাসহ স্থানীয় অনেকেই মনে করেন, স্থান অবস্থান সৌন্দর্য যোগাযোগ ব্যবস্থা সবকিছু মিলে সম্ভাবনার পর্যটন টাঙ্গন ব্যারাজ। ঠাকুরগাঁও ১ আসনের সাংসদ ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন ঠাকুরগাঁওয়ের অনেক উন্নয়ন করেছেন। আমরা এই বিষয়ে তাঁর সুদৃষ্টি কামনা করছি।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন টাঙ্গন ব্যারেজের বর্তমান ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা মতামত জানিয়ে বলেন, টাঙ্গন ব্যারেজের সামনে/উজানে বর্ষা মৌসুমে বিসত্মৃর্ন জলাশয় মানুষের দৃষ্টি নন্দন পরিবেশ তৈরি করে। ব্যারেজটির ভাটির দিকে উভয় পার্শ্বে সংরক্ষিত এলাকা পরিকল্পনা মাফিক বৃক্ষরোপন সহ উন্নয়নমুলক কাজের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের বসা ও দেখার জন্য পরিবেশের দরকার। বর্তমানে উক্ত এলাকায় টাঙ্গন ব্যারেজ দর্শনার্থীদের আশা যাওয়ার কারনে দোকান পাট ব্যবসা বানিজ্য সহ নানাবিধ উন্নয়ন হয়েছে এবং এলাকাটি একটি পিকনিক স্পট হিসেবে ব্যবহার যোগ্য। কিন্তু পিকনিক স্পট হিসিবে ব্যবহারের পরিবেশ তৈরি করা জরুরি প্রয়োজন।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
error: Content is protected !!