• মঙ্গল. মার্চ ৯, ২০২১

অনুসন্ধানবার্তা

অজানাকে জানতে চোখ রাখুন

ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষি অফিসের তদারকির অভাবে বিলুপ্তির পথে কাউন চাষ

Byঅনুসন্ধান বার্তা

অক্টো ১৩, ২০২০
0 0
Read Time:3 Minute, 0 Second

আপেল মাহমুদ, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রায় বিলুপ্তির পথে কাউন চাষ। এক সময় উপজেলার দশটি ইউনিয়নের গ্রামগঞ্জে ব্যাপক চাষ হলেও বর্তমানে কাউন চাষে কৃষকের আগ্রহ না থাকায় হারিয়ে যেতে বসেছে কাউন ফসল।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া থানাধীন ২০নং রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের কৃষক সুজন আলী বলেন, আমাদের এই গ্রামে সবাই মরিচ, আলু, শাক সবজির চাষের ফাঁকে কাউন চাষ করতো। সেই কাউন বিক্রি করে সংসারের খরচ চালাতাম। এখন কাউন চাষ আর দেখা যায় না।

এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে কথা বললে তারা জানান, দেশী জাতের এ ফসলটিকে আমাদের স্বার্থেই সংরক্ষণ করতে হবে। তা না হলে পরবর্তী প্রজন্ম জানতেই পারবে না কাউন নামটি। কাউন নামের এ ফসলটি যাতে বিলুপ্ত হয়ে না যায় এ জন্য সবার এগিয়ে আসা উচিত।

সহজ চাষ পদ্ধতি, স্বল্প খরচ ও পানি সাশ্রয়ী হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঠিক তদারকির অভাবে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই ফসলটি আজ বিলুপ্তির পথে।

এমনকি রুহিয়া উপজেলায় কাউন চাষের কোন তথ্য নেই কৃষি কর্মকর্তার দপ্তরে। ফসলটি যেন কালের গর্ভে বিলীন হতে চলেছে। সুস্বাদু একটি ফসলের নাম কাউন। মানুষজন কাউন চালের সঙ্গে রান্না করে খায়, হরেক রকমের পিঠা, খীর, পায়েস, খিচুরীসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী তৈরি হতো কাউন থেকে। ফসলটির শুকনো জমিতে ঝুরঝুরে চাষের পর চৈত্র মাসে বীজ ছিটিয়ে বপন করতে হয়। জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে ফসল ঘরে ওঠে। এতে কোন সেচের প্রয়োজন হয় না। ফলন হয় বিঘা প্রতি ১০-১২ মণ। কাউনের শীষ ছিঁড়ে নিয়ে যাওয়ার পর বাকি গাছের অংশ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। অন্যান্য আবাদের মতোই কাউন সহযোগী ফসল হিসেবে কৃষকের আর্থিক যোগান দিতো।

তবে এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষ্ণ রায় জানান, কাউন এখন অভিজাত ফসল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তা ছাড়া বৃহৎ ভাবে কৃষক চাষ না করায় কৃষি অফিসে এর কোন তথ্য নেই।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
error: Content is protected !!