• শুক্র. মার্চ ৫, ২০২১

অনুসন্ধানবার্তা

অজানাকে জানতে চোখ রাখুন

পুনর্বাসন না করেই বস্তি উচ্ছেদ : অসহায় মানুষ

Byঅনুসন্ধান বার্তা

সেপ্টে ১৪, ২০২০
0 0
Read Time:4 Minute, 52 Second

আপেল মাহমুদ, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁও রোড রেলস্টেশনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ । বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পূর্ণেন্দু দেব এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন।

১৯৭১ সালে ফাতেমা বেওয়া স্বামী হারিয়ে উপায় না পেয়ে পেটের দায়ে পরিবার নিয়ে আশ্রয় নেন ঠাকুরগাঁও রোডেও রেলওয়ের বস্তিতে।
ফাতেমা বেওয়ার মতো আরও অনেক অসহায় নারী-পুরুষ বেঁচে থাকার তাগিদে রেলওয়ের বস্তিতে বসবাস করছিলেন। কিন্তু তাদেরকে পুনর্বাসন না করেই উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছেন ঠাকুরগাঁও রেল কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গরীব অসচ্ছল ও অসহায় লোকজনরা রেলওয়ের এলাকায় বেশ কয়েকটি বস্তি গড়ে তোলেন। কিন্তু তাদেরকে পুনর্বাসন না করেই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বস্তিগুলো উচ্ছেদ করেছেন।

বস্তিবাসীরা আক্ষেপ করে বলেন, আমরা নিরুপায় হয়ে বস্তিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করে আসছি। তবে বস্তি উচ্ছেদের আগে আমাদের পুনর্বাসন করা উচিত ছিল।

রেজু আনুল কবীর নামে এক বস্তিবাসী অনুসন্ধান বার্তাকে বলেন, কয়েক হাজার মানুষ এই বস্তিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছে। গ্রামের মানুষ ভিটেমাটি ও জায়গা জমি হারিয়ে জীবিকার তাগিদে গ্রাম ছেড়ে প্রতিনিয়ত ঠাকুরগাঁও শহরে কাজের সন্ধানে আসে।

তিনি আরো বলেন, এসব সহায় সম্বলহীন মানুষ শহরে এসে রিকশা চালায়, কেউ দিনমজুর, গার্মেন্ট শ্রমিক, হকার বা ফেরিওয়ালার কাজ করে। তারা যে অল্প টাকা আয় করে, তা দিয়ে খেয়ে পড়ে কোনো মতে বেঁচে থাকে। কিন্তু সে টাকা দিয়ে বাসা ভাড়া করে থাকা সম্ভব নয়।’

রেহেনা বেগম নামে এক নারী বলেন, ‘শহরের বাইরে তেমন কোন কাজ নেই, যে কারণে আমরা রোডে এসে বস্তিতে উঠেছি। বাধ্য হয়ে আলো বাতাস পানির অভাবে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই বাস করি। এতো কষ্ট করে থাকার পরও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে বস্তিবাসীদের কেন উচ্ছেদ করা হলো।

সখিনা নামে আরেক বস্তিবাসী বলেন, মানুষ শখ করে বস্তিতে থাকতে চায় না। আমরাও চাই নাগরিক সুবিধা সম্পন্ন জীবন যাপন করতে। তাই আমাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করুন। আমরাও চাই ভালোভাবে বাঁচতে।

জানা গেছে, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও রেল স্টেশনের আশে পাশে গড়ে ওঠা তালিকাভুক্ত ২৫০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

বিভাগীয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পূর্ণেন্দু দেব জানান, আমরা দফায় দফায় নোটিশ দিয়েছি। কিন্তু কে শোনে কার কথা। অনেক সময় দিয়েও কেউই তাদের স্থাপনা সরিয়ে নেয়নি। এতে আমরা উচ্ছেদ অভিযান চালাতে বাধ্য হয়েছি। ঠাকুরগাঁও রেল স্টেশনের উত্তর ও দক্ষিণ দিকে দু’পাশ দিয়ে রেলওয়ের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে স্থায়ীভাবে গড়ে তোলা বিভিন্ন দোকান, মার্কেট, বসত বাড়ি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।

পুনর্বাসন বিষয়ে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মানুন জানান, উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করে পরবর্তীতে আশ্রায়ন প্রকল্প করে দিব।

অভিযানে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা মোঃ কামরুল হাসান সোহাগ, সদর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক ভূষণ রায়, পেশকার চন্দন কুমার দেসহ পুলিশ ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
error: Content is protected !!