• মঙ্গল. মার্চ ৯, ২০২১

অনুসন্ধানবার্তা

অজানাকে জানতে চোখ রাখুন

বগুড়ার শেরপুরে গ্রাহকের কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে এনজিও উধাও

Byঅনুসন্ধান বার্তা

সেপ্টে ১৫, ২০২০
0 0
Read Time:5 Minute, 0 Second

রাশেদুল হক, শেরপুর (বগুড়া) থেকে:
ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষে সাধ্যমত সঞ্চয় রাখেন সাধারণ মানুষ। আর সঞ্চয়ের মাধ্যমে সাবলম্বী করার জন্য কতিপয় এনজিও গুলো প্রতারনা করার জন্য উৎসাহিতও করে সাধারণ মানুষদের। কিন্তু বগুড়ার শেরপুরের একতা উন্নয়ন সংস্থা নামে একটি এনজিও সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারনা করে তাদের সঞ্চয়ের কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছে। এদিকে সঞ্চয়ের টাকা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ভূক্তভোগী সমিতির সদস্যরা।

জানা গেছে, গত দুই বছর আগে একতা উন্নয়ন সংস্থা নামে একটি ঋণদান ও সঞ্চয় সমিতি কার্যালয় চালু হয় শেরপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ডক্টরস কমপ্লেক্সের দ্বিতীয়তলায়। সরকারি কোনো নিবন্ধন না নিয়ে সদস্য ভর্তি ও তাদের কাছ থেকে সঞ্চয় সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেন সংগঠনের কথিত চেয়ারম্যান মানছুরুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী সদস্য সচিব নাজনীন আকতার।

পরবর্তীতে মোটা অংকের মুনাফা ও ঋন দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে ওই এনজিও প্রায় দুই শতাধিক গ্রাহক সংগ্রহ করে তাঁদের প্রত্যেকের নামে একাধিক সঞ্চয়ের বই খুলে প্রায় এক কোটি টাকা আদায় করেন। কিন্তু গ্রাহকদের ঋণ দেয়ার পরিবর্তে তাদের সঞ্চয়ের প্রায় কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন এনজিও’র চেয়ারম্যান মানছুরুর রহমান ও তার স্ত্রী নাজনীন আকতার। তবে সমিতির সদস্য সচিব নাজনীন আকতার বাসায় অবস্থান করলেও তিনি অসুস্থ থাকার অজুহাত দেখিয়ে কারো সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতও করছেন না। এমনকি টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যাপারেও কোনো ভূমিকা নিচ্ছেন না তিনি।

সমিতির সদস্য সোহেল রানা জানান, তিনি একাই একাধিক বই খুলে ২ লাখ ৮ হাজার ৭০০ টাকা সঞ্চয় জমা করেছেন। একইভাবে টুকু মিয়া, সামছুল হক, সাইফুল ইসলামসহ অনেকেই সদস্য হিসেবে সঞ্চয় জমা রেখেছেন। কিন্তু কেউ টাকা ফেরত পাননি। তাদের সবারই সঞ্চয়ের টাকা নিয়ে গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে উধাও হয়েছেন এনজিও’র চেয়ারম্যান মানছুরুর রহমান।

এদিকে এনজিও চেয়ারম্যান মানছুরুর রহমানের উধাও হওয়া নিয়ে ডক্টরস কমপ্লেক্সে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেক ব্যবসায়ীরা জানান, একতা সমিতি (এনজিও) নামের প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪/৫’শ গ্রাহক রয়েছে। তবে সর্বনিম্ন দৈনিক ৫০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত সঞ্চয় রেখেছেন। বেশ কয়েকদিন ধরে ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিবকে আসতে দেখা যাচ্ছে না এমনকি নতুন করে আর সঞ্চয় নিতেও দেখা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে একতা উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান মানছুরুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি পলাতক থাকায় এবং ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

তবে ওই সংগঠনের সদস্য সচিব নাজনীন আকতার তার স্বামী উধাও হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, সদস্যদের কিছু কিছু করে টাকা ফেরত দেয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সমিতির সব সদস্যদেরই সঞ্চয়ের টাকা ফেরত দেয়া হবে। তবে করোনার কারনে অর্থনৈতিক ভাবে বিপযস্ত হওয়ায় সঞ্চয়ের টাকা ফেরত দিতে বিলম্ব হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে বগুড়ার শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই ঘটনার কথা শুনেছি। তবে সমিতির কোন সদস্য এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
error: Content is protected !!