• মঙ্গল. মার্চ ৯, ২০২১

অনুসন্ধানবার্তা

অজানাকে জানতে চোখ রাখুন

বগুড়ায় ঘাস-খড়ের দাম বৃদ্ধি, বিপাকে পশু পালনকারীরা

Byঅনুসন্ধান বার্তা

অক্টো ১২, ২০২০
0 0
Read Time:4 Minute, 9 Second

ইমরান হোসেন ইমন, অনুসন্ধান বার্তা :

দফায় দফায় বন্যার পানিতে ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় বগুড়ায় গরুর খাবার ঘাস ও খড়ের দাম বেড়ে আকাশ চুম্বী। বাজারেও এর সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন পশু পালনকারীরা।

জানাগেছে, তৃতীয় দফা বন্যায় যমুনার চরাঞ্চল ও বাঙ্গালী নদীর আশপাশের এলাকার ফসলের ক্ষেত ও ঘাস নষ্ট হয়ে গেছে। বন্যায় সারিয়াকান্দির যমুনার চরাঞ্চলের বোহাইল ও কাজলা চর সহ অন্যান্য চরাঞ্চল ও বাঙ্গালী নদীর সারিয়াকান্দি, গাবতলী, ধুনট, শেরপুর উপজেলার বিস্তৃর্ন ফসলের মাঠ সহ বিদেশী জাতের নেপিয়ার ঘাস নষ্ট হয়ে গেছে। একারনে গরুর খাবার ঘাস ও খড়ের সংকট দেখা দিয়েছে। দাম দ্বিগুন হওয়ায় পশু পালনকারীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। নিজেদের সংসারের খরচ ও গরুর খাবার কিনতে হিমশিম খাচ্ছে তারা।

গোসাইবাড়ী বাজারে গিয়ে কথা হয় ঘাস বিক্রেতা হৃদয় শেখের সাথে। তিনি জানান, বন্যায় গোচারন ভূমি ও ফসলের মাঠ ডুবে ঘাস নষ্ট হয়ে যাওয়ার গো-খাদ্যের দাম দ্বিগুন বেড়ে গেছে।

মিনহাজ উদ্দীন ফিরোজ জানান, বগুড়া জেলার মধ্যে ধুনটের গোসাইবাড়ীর জোড়খালী গ্রামে নেপিয়ার ঘাসের চাষ হয় বেশী। অনেকে ধান কিংবা অন্য ফসল বাদ দিয়ে বেশী লাভজনক হওয়ায় এই ঘাস চাষে ঝুকে পড়েছে। তিনিও ৮ বিঘা জমিতে নেপিয়ার ঘাস লাগিয়েছে। এক মাস আগে ছোট ঘাসের আটি প্রতি কুড়ি ৮০ টাকা দরে বিক্রী হলেও এখন বিক্রী হচ্ছে ১৫০ টাকা কুড়ি। জমির ঘাস প্রায় শেষ বলে জানান তিনি।

শুকনো খড় বিক্রেতা চিথুলিয়া গ্রামের আজাহার আলী জানান, প্রতি বোঝা খড় একমাস আগে ২৫০ টাকা বিক্রী করলেও এখন বিক্রী করছি ৫০০ টাকা বোঝা। তবে খড়ও প্রায় শেষ পর্যায়ে।

বড়বিলা গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি দুটি গরু পালন করছেন। আগে একশ টাকার ঘাস কিংবা খড় হলেই হতো। কিন্তু এখন দাম বেড়ে যাওয়ায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় ঘাস ও খড় কিনতে হচ্ছে। একারনে এখন গরু লালন পালন করা কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে।

খড় বিক্রেতা আলাউদ্দিন জানান, ধান বিক্রী করে যে টাকা পাবো, খড় বিক্রী করেও সেই টাকা উঠবে। ধানের খড় প্রতি কুড়ি আগে ৭০ টাকা বিক্রী হলেও এখন বিক্রী হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়।

বগুড়া জেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল আলম তালুকদার জানান, বন্যায় দেশীয় জাতের ঘাস নষ্ট হওয়ায় এবং গোচারণ ভুমি পানিতে ডুবে যাওয়ায় বিদেশী জাতের নেপিয়ার ঘাস উৎপাদন হলেও সংকট বেড়েছে।

তিনি আরও জানান, ইরি-বোরোর খড় বৃষ্টির কারনে কৃষকরা শুকাতে পারেনি। বেশীর ভাগ খড় পচে গেছে। তাই খড় সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারনে বন্যাকবলিত এলাকায় ৬৭৮ একর জমিতে বিদেশী জাতের নেপিয়ার ঘাস উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
error: Content is protected !!