• রবি. মার্চ ৭, ২০২১

অনুসন্ধানবার্তা

অজানাকে জানতে চোখ রাখুন

বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে যমুনার নৌ পথে চলাচলে চরাঞ্চলের মানুষদের চরম দূর্ভোগ

Byঅনুসন্ধান বার্তা

অক্টো ১৫, ২০২০
0 0
Read Time:4 Minute, 56 Second

ইমরান হোসেন ইমন, অনুসন্ধান বার্তা :

কালের বিবর্তনে নদীর উপর হয়েছে সেতু। এখন নদী উপর সেতু হওয়ায় বাস কিংবা ট্রেন চলে। স্টেশন কিংবা বাস স্ট্যান্ডে থাকে যাত্রী ছাউনী আর আধুনিক সুযোগ সুবিধা। কিন্তু বগুড়া-সিরাজগঞ্জের নৌ ঘাট কোটি টাকায় লীজ দেয়া হলেও নেই কোন যাত্রী ছাউনি এবং ঘাটে লোকজন আসার নেই কোন সুযোগ সুবিধা। রোদ, বৃষ্টিতে চলছে নৌ পথে যমুনার চর এবং এক জেলা থেকে অন্য জেলায় নৌকা পারাপার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও সিরাজগঞ্জ জেলার জামতৈল, মানিক দাইর, ধারাবর্ষা, পাকুড়িয়া, ডাকাতমারা, বোহাইল, মাঝিরা, ছোনপচা, শানবান্ধা, সহ অন্যান্য প্রায় ২০টি চর ও এলাকার মানুষদের যাতায়াতের একমাত্র সহজ মাধ্যম খেয়া নৌকা। চর এলাকায় নৌকায় পারাপার হয় প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ। চরে হাট বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কম থাকায় এবং সরকারী অফিস না থাকায় স্থানীয় লোকজনকে কাজের সন্ধানে যেতে হয় বিভিন্ন এলাকায়।

এ ছাড়াও বগুড়া থেকে জামালপুর জেলায় নৌ পথে প্রায় শত কিলোমিটার পথ কম হওয়ায় মাদারগঞ্জ, তারাকান্দী, সরিষাবাড়ী হয়ে নদী পথে নৌকায় লোক জন কম খরচ এবং কম সময়ে পৌছে যাওয়ায় নদী পথে নৌকাই তাদের কাছে জনপ্রিয় বাহন। অথচ, কোটি টাকা দিয়ে ইজারা নিলেও সেখানে সরকারী ভাবে নেই কোন যাত্রী ছাউনী, টয়লেট এবং যাতায়ত সুবিধা।

বগুড়ার সারিয়াকান্দী ও ধুনট উপজেলার শহড়াবাড়ী, সিরাজগঞ্জ উপজেলার ঢেকুরিয়া খেয়া নৌ ঘাট ঘুরে জানা যায় নদীর তীরবর্তী মানুষের এসব দূর্ভোগের কথা।
সারিয়াকান্দি খেয়া ঘাটে কথা হয়, জামতৈলের রমিছা বেগমের সাথে। তিনি জানান, ঘাটের কোন টয়লেট না থাকায় এক সময় খুবই অসুবিধায় পড়েছিলেন। পরে পাশের এক বাড়ীতে গিয়ে রক্ষা পান তিনি।

ধারাবর্ষা চরের আলীম নামে এক ব্যক্তি জানান, চরে কোন হাট-বাজার না থাকায় এবং অফিস আদালতে স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের আসতে খেয়া নৌকা তাদের এক মাত্র ভরসা। কিন্তু যাত্রীদের কোন সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা নেই। ধুনটের শহড়াবাড়ী খেয়া ঘাটেও যাত্রীদের একই অভিযোগ।

তবে সারিয়াকান্দি খেয়া ঘাটের ইজারাদার জানান, বাৎসরিক ৭৪ লাখ টাকায় খেয়া ঘাট ইজারা নিয়েছি। বার বার জেলা পরিষদকে বলেও ঘাটের সংস্কার পাইনি। নেই কোন টয়লেট, ঘাট থেকে নৌকায় ওঠার কোন সু-ব্যবস্থাও নেই। পানি কমে গেলে প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তা নিজেকেই করতে হয়। অথচ এ সব করার কথা জেলা পরিষদের। গত শুস্ক মৌসুমে রাস্তা করতে ৬ লাখ খরচ করেছি। তবে খেয়া ঘাটের দুই পাড়েই যাত্রীদের জন্য সু- ব্যবস্থা প্রয়োজন।

ধুনটের শহড়াবাড়ী খেয়া ঘাটের ইজারাদার হযরত আলী জানান, বর্ষাকালে খেয়া ঘাটে আসতে যাত্রীদের কাঁদা পানি পাড় হয়ে। নিজের টাকায় সারা বছর রাস্তা মেরামত করি। ইজারার টাকা থেকেই খেয়া ঘাটের সংস্কার করা উচিত। কিন্তু কিছুই করেনা জেলা পরিষদ। এখানে নেই যাত্রী ছাউনী, নেই টয়লেট ব্যবস্থা।

তবে এ বিষয়ে বগুড়া জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আসাদুর রহমান দুলু জানান, টয়লেট, যাত্রী ছাউনী এবং অন্যান্য অসুবিধার কথা কোন খেয়া ঘাটের ইজাদার জানাননি। তারপরও এবিষয়ে পরবর্তীতে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
error: Content is protected !!