• মঙ্গল. এপ্রি ২০, ২০২১

অনুসন্ধানবার্তা

অজানাকে জানতে চোখ রাখুন

ধুনটের টেংরাখালি রাঁধা গোবিন্দ মন্দিরে অগ্নিসংযোগ ও প্রতীমা ভাংচুর

Byঅনুসন্ধান বার্তা

মার্চ ৩০, ২০২১
0 0
Read Time:7 Minute, 49 Second

স্টাফ রিপোর্টার, অনুসন্ধানবার্তা :

বগুড়ার ধুনটে টেংরাখালি জেলেপাড়া রাঁধা গোবিন্দ মন্দিরে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ ও স্বরসতির প্রতীমা ভাংচুর করেছে দূর্বৃত্তরা। সোমবার (২৯মার্চ) গভীর রাতে চৌকিবাড়ী ইউনিয়নের টেংরাখালি জেলেপাড়া রাঁধা গোবিন্দ মন্দিরে এঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সংখ্যালঘু সম্প্রাদায়ের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

তবে টেংরাখালি জলমলকে কেন্দ্র করে বিরোধের জের ধরেই এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে স্থানীয় হিন্দু পরিবারের সদস্যরা ধারনা করছেন।
টেংরাখালি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি নিমাই চন্দ্র হাওলদার অভিযোগে করে বলেন, ৪২ একর আয়তনের টেংরাখালি জলমহলটি ৬/৭ কিলোমিটার দূরের পেঁচিবাড়ি মালোপাড়া ধীবর মৎস্যজিবি সমবায় সমিতিকে অবৈধ ভাবে নিতিমালা বহির্ভূত ভাবে ১৪২৪-২৯ বঙ্গাব্দ মেয়াদে লীজ দেওয়া হয়।

এরপর পেঁচিবাড়ি মলোপাড়া মৎস্যজীবি সমিতি ওই জলমহলটি আব্দুর রউফ খান নামের এক ব্যক্তিকে অবৈধ ভাবে সাবলীজ দেয়। আব্দুর রউফ খান এলাকার কিছু সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে জলমহলটি ভোগদখল শুরু করে। এঅবস্থায় আমি উচ্চ আদালতে একটি মামলা দায়ের করি (নং-৭৬৪৩/২০১৭)। আদালত ২০১৯ সালে সরেজমিনে তদন্ত করে সাবলীজ প্রমাণিত হলে লীজ বাতিল করে প্রকাশ্যে টেন্ডার দেওয়ার জন্য বগুড়া জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়।

বগুড়া জেলা প্রশাসক ২০১৯ সালের ২৩ জুন সরেজমিনে তদন্ত করে সাবলীজ প্রমান পেয়ে একই বছর ১১ জুলাই জেলা জলমহল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় টেংরাখালি জলমহলের লীজ বাতিল সহ জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত করেন।

এরপর পেঁচিবাড়ি মালোপাড়া মৎস্যজিবি সমবায় সমিতির পক্ষে বগুড়া জেলা প্রশাসক ও আমাদের সমিতির সভাপতি সাধারন সম্পাদক সহ ১০ জনকে বিবাদী করে বগুড়া সহকারী জজ আদালতে ২৮০/১৯ অন্য একটি মামলা করেন। ওই মামলায় আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন।
এরপর পেঁচিবাড়ি ধীবর মৎস্যজিবি সমিতির পক্ষে অধিকতর তদন্তের জন্য ভুমি মন্ত্রনালয়ে একটি অভিযোগ দেয়। ভুমি মন্ত্রনালয় অধিকতর তদন্তের জন্য রাজশাহি বিভাগীয় কমিশনারকে নির্দেশ দিলে, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মোঃ হুমায়ন কবির খোন্দকার সরেজমিনে তদন্ত করে টেংরাখালি জলমহলটি সাবলীজ দেওয়ার সত্যতা প্রমান পেয়ে ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারী ভুমিমন্ত্রনালয়ে প্রতিবেদন দেন।

নিমাই হওয়ালদার আরো জানান, পরবর্তীতে আমি ২৮০/১৯ নং মামলার ৭ নং বিবাদী হিসাবে হাইকোটে আপিল দায়ের করার পর ২০২০ সালের ৫ জানুয়ারী হাইকোট ওই মামলাটির অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেন।

এরপর বগুড়া জেলা প্রশাসক সারকারী স্বার্থরক্ষার জন্য টেংরাখালি জলমহলটি খাস আদায় করার জন্য ধুনট উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেন। ধুনট উপজেলা নির্বাহী অফিসার ২০২০ সালের ১১ নভেম্বর পারলক্ষিপুর সুলতানহাটা মৎস্যজীবি সমিতিকে দায়িত্ব দেয়। আমরা পারলক্ষিপুর সুলতানহাটা সমিতির পক্ষ হয়ে দিন হাজিরা চুক্তিতে মাছ ধরার কাজ করি। এতে আব্দুর রউফ খানের সহযোগী খোকা ফকির, তোতা ফকির, মান্নান, কামাল, আলতার, লিটন সহ ১০/১৫ জন এলাকার সন্ত্রাসী আমাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং আমাদেরকে নানা রকম ভয়ভীতি দেখায়।

গত ১৩ ডিসেম্বর পেঁচিবাড়ি মালোপাড়া ধীবর সমিতির পক্ষে বগুড়া জেলা জজ আদালত থেকে আবারও অস্থায়ী নিষেজ্ঞার আদেশ নিয়ে টেংরাখালি জলমহলটি জবর দখল করে। এরপর আমি টেংরাখালি সমিতির পক্ষে হাইকোটে আপিল করলে আদালত চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারী অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ স্থগিত করেন।

কিন্ত আদালতের আদেশ অমান্য করে ওই সন্ত্রাসীগন টেংরাখালি জলমহলটি নিজেদের দখলে রাখেন। গত সোমবার (২৯ মার্চ) বিকালে ধুনট এ্যাসিল্যান্ড অফিসের সার্ভেয়ার সাইফুল ইসলাম লোকজন নিয়ে সরেজমিনে টেংরাখালি জলমহলে গিয়ে খোকা ফকির, তোতা ফকির, কামাল, আলতাব সহ অবৈধ দখলকারীদের মাছ ধরতে নিষেধ করেন এবং তাদের নৌকা গুলো ডুবিয়ে দেন।

টেরাখালি মৎস্যজীবি সমিতির সাধারন সম্পাদক বলরাম হাওয়াদার জানান, এ্যাসিল্যান্ড অফিসের লোকজন চলে যাওয়ার পর খোকা ফকির তার সহযোগীদের নিয়ে লাঠি সোডা ছুরি, ফালা নিয়ে নৌকা তুলে রাতভর মাছ মারে এবং আমাদেরকে নানা রকম হুমকি দেয়। আমরা ভয়ে রাতে নিজ নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে পড়ি। সকালে দেখি আমাদের রাঁধা গোবিন্দ মন্দিরের ভেতর আগুন জ¦লছে এবং প্রতীমা ভাংগা। পরে আমাদের চিৎকারে ওই সন্ত্রাসীরা চলে যায়।

মৎস্যজীবি বলরাম হাওয়াদার আরো বলেন, ইতিপুর্বে খোকা ফকির সহ তাদের সহযোগীরা আমাদের গ্রামে অগ্নি সংযোগ ও হামালা করেছে।
মন্দির কমিটির সভাপতি খোকা চন্দ্র হাওয়ালদার বলেন, মন্দির ভাংচুরের ঘটনায় আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। এঘটনায় আমারা গ্রামের সবাই পরামর্শ করে থানায় মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

এদিকে সংবাদ পেয়ে বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা (বিপিএম), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান, ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার মোহন্ত, ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধ বালা, তদন্ত কর্মকর্তা জাহিদুল হক সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এবিষয়ে ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কৃপা সিন্ধ বালা বলেন, মন্দিরের প্রতীমা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এবিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
error: Content is protected !!