• মঙ্গল. এপ্রি ২০, ২০২১

অনুসন্ধানবার্তা

অজানাকে জানতে চোখ রাখুন

শেরপুরে ইউপি সদস্যের নির্দেশে সমবয়সী কিশোরের সঙ্গে কিশোরীর বিয়ে !

Byঅনুসন্ধান বার্তা

এপ্রি ৮, ২০২১
0 0
Read Time:4 Minute, 58 Second

শুভ কুন্ডু, শেরপুর (বগুড়া) :

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় ১৫ বছরের এক কিশোরের সঙ্গে ১৪ বছর বয়সের এক কিশোরীর জোর পূর্বক বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বাল্য বিয়ের শিকার ওই কিশোর-কিশোরী শেরপুর উপজেলার শাহ্ বন্দেগী ইউনিয়নের বাসিন্দা। বিয়ের কার্য সম্পন্ন হয়েছে কিশোরীর নানার বাড়ি ভবানীপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে।

তবে অভিযোগ রয়েছে ওই ওয়ার্ডের (৪নং) সংশ্লিষ্ট মেম্বর মোঃ সাইফুলের নির্দেশে এই বাল্য বিয়ের ঘটনাটি ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন কিশোরের বাবা ও ভাই।

ওয়ার্ডের সংশ্লিষ্ট মেম্বার এবং মেয়ের মা-বাবাসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

নকল জন্মনিবন্ধন প্রস্তুত করে ৩লক্ষ টাকা দেন-মোহরানা ধার্যে জালিয়াতীর মাধ্যমে নোটারী পাবলিক কার্যালয়ের এফিডেভিট তৈরী করা হয়েছে, যা অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোরের পরিবারের কেউই জানতে পারেননি।

তবে কিশোরীর মায়ের দাবি, আগে থেকেই ওদের সম্পর্ক ছিলো তাই বিয়ে দিয়ে আমার বাড়িতে রেখেছি। এখন ছেলেকে নিয়ে যেতে চাইলে আমার মেয়েকেও সাথে নিয়ে যেতে হবে।

এদিকে কিশোরের বাবার ভাষ্য, ষরযন্ত্রমূলকভাবে আমার নাবালক ছেলেকে বিয়েনামক জালে ফাসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তাই এই ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে উপর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান তিনি।

এ ঘটনায় কিশোরের বাবা ফরিদ উদ্দিন আকন্দ বাদি হয়ে শেরপুর থানায় গত ২১মার্চ সন্ধায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।

অভিযোসূত্রে জানা গেছে, গত ২১ মার্চ উপজেলার শাহ্বন্দেগী ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামের ফরিদ উদ্দিন আকন্দর ছেলে কাউছার ইসলাম (১৫) হঠাৎই বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যায়। অনেক খোজাখুজির পর গত ৩০ মার্চ সকালে খবর আসে একই এলাকার আব্দুল আজীজ ও চাম্পা বেগমের কিশোরী মেয়ে অন্তরা খাতুন (১৪) এর সাথে ভবানীপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে কিশোরীর নানার বাড়ি থেকে ওই কিশোর-কিশোরীর বিয়ে সম্পন্ন করে পুনরায় কিশোরী মেয়ের বাড়িতেই ছেলেকে রাখা হয়েছে।

খবর পেয়ে এলাকার গণ্য-মান্য ব্যক্তিদের নিয়ে ছেলেকে উদ্ধারের জন্য মেয়ের বাড়িতে গেলে মেয়ের মা জানান, ছেলেকে নিয়ে যেতে চাইলে কাবিনের ৩ লক্ষ টাকা দিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

এরপরে নিরুপায় হয়ে কিশোরের বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

পরে অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানা-পুলিশ ছেলেকে উদ্ধারের জন্য মেয়ের নানার বাড়ি গেলে সংশ্লিষ্ট ইউপি মেম্বর উপস্থিত হয়ে ছেলে ও মেয়ে উভয়কেই থানায় উপস্থিত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পুলিশকে ফেরত পাঠায়। পরের দিন থানায় সবাই উপস্থিত হলেও ছেলে-মেয়েকে থানায় অনুপস্থিত রেখে দরবার সম্পন্ন করা হয়।

কারণ, দরবাওে নারী-শিশু আইন বিষয়ক জটিলতা থাকায় থানা-পুলিশ এ ঘটনায় উভয়পক্ষকে সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি অথবা আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার পরামর্শ দেয়া হয়।

এ বিষয়ে ভবানীপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড মেম্বার মো: সাইফুল বলেন, আমি এলাকার মেম্বার হিসেবে আমাকে ডাকা হয়েছিলো তাই ওই দিন উপস্থিত হয়েছিলাম।

তবে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ লিয়াকত আলী শেখ জানান, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাননি । অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
error: Content is protected !!