• মঙ্গল. মার্চ ৯, ২০২১

অনুসন্ধানবার্তা

অজানাকে জানতে চোখ রাখুন

বন্ধুদের সঙ্গে স্মৃতিময় সেই ক্যাম্পাসে

Byঅনুসন্ধান বার্তা

সেপ্টে ১৭, ২০২০
1 0
Read Time:5 Minute, 47 Second

আলী আরমান রকি :
২০১৫ সালে এসএসসি পরীক্ষা শেষ করে আমরা প্রিয় প্রতিষ্ঠান ধুনট সরকারি এন, ইউ পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিদায় নিয়েছি। বর্তমানে বন্ধুরা সারাদেশের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। অনেকে চাকুরি জীবনেও প্রবেশ করেছে। কৈশোরের প্রিয় বন্ধুদের সাথে অনেক দিন দেখা হয়না। করোনাকালীন এই সময়ে অধিকাংশ বন্ধুরাই এখন বাড়িতে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম বন্ধুত্বের টানে আরেকবার স্কুল ক্যাম্পাসে ফেরার।

সবাইকে আগেই জানিয়ে দেয়া হলো ৬ই সেপ্টেম্বরে আমরা প্রিয় স্কুল ক্যাম্পাসে ২০১৫-এসএসসি ব্যাচের পুনর্মিলনীর আয়োজন করেছি। দীর্ঘদিন পর প্রিয় বন্ধুদের সাথে সাক্ষাৎ হবে । সবার মনের মধ্যে একটা অন্যরকম অনুভূতি কাজ করছিলো। আমার মতো সবারই হয়তো অতীতের স্মৃতি মনের কোনে উঁকি দিয়েছিলো। সবাই হয়তো ফিরে গিয়েছিলাম কৈশোরের আনন্দ ঘেরা হাইস্কুল জীবনে। মনে হচ্ছিল সাদা শার্ট আর নেভি ব্লু রংয়ের প্যান্ট’র স্কুল ড্রেস পরে, কাঁধে ব্যাগ নিয়ে এইতো সেদিন স্কুল মাঠে ছুটে বেড়িয়েছি। কত আনন্দ, বিনোদন, হৈ-হুল্লোড়েরে মেতে উঠেছি। বৃষ্টির দিনে ফুটবল নিয়ে মাঠে নেমে পরতাম , কখনো টিফিন পিরিয়ডে ব্যাট-বল নিয়ে মাঠে ছুটে যেতাম। ক্লাসে শিক্ষদের কড়া শাসন, বন্ধুদের সাথে কাটানো স্মৃতিগুলো খুব মনে পরছিলো।

অবশেষে এলো সেই কাঙ্খিত দিন। ৬ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছিল সবার মাঝে। সকাল থেকে এক এক করে সবাই স্কুল ক্যাম্পাসে হাজির হতে লাগলো। দীর্ঘদিন পর প্রিয় বন্ধুদের কাছে পেয়ে কি যে আনন্দ মনে সঞ্চারিত হয়েছিলো তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। সকালেই ক্যাম্পাসে হাজির হয়েই ব্যানার টানানো হলো। এদিকে বাবুর্চিও হাজির। কয়েকজন বন্ধু মিলে বাজার সম্পন্ন করলো। রান্না শুরু হলো। কেউ রান্নায় বাবুর্চিকে সহযোগিতা করছে, কেউ সাউন্ড বক্সে গান বাজাচ্ছে। কেউ কেউ ক্যামেরা হাতে প্রিয় বন্ধুদের ফ্রেমবন্দি করতে ব্যস্ত হয়ে পরলো। কেউ কেউ বেঞ্চকে ঢোল বানিয়ে লোক গানের আসর জমিয়ে তুললো, অনেকেই ব্যস্ত বন্ধুদের সাথে সেলফি তুলতে। আবার কেউ দীর্ঘদিন পর বন্ধুকে কাছে পেয়ে মনের জমানো সব সুখ-দুঃখের আলাপচারিতায় ব্যস্ত হয়ে পড়লো। এ যেন দীর্ঘদিনের চিরচেনা দৃশ্য। মনে হচ্ছিল এই যেন আমরা আবারও স্কুল জীবনে ফিরে এসেছি।

দুপুরের দিকে সবাইকে ডেকে একজায়গায় হাজির করা হলো। উদ্দেশ্য গ্রুপ ছবি তোলা। আমরা ব্যানার সামনে নিয়ে অনেক অনেক গ্রুপ ছবি তুললাম। আমরা স্যারদেরকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। ছবি তোলার সময় আমরা ২ জন শিক্ষক শ্রদ্ধেয় সোলায়মান আলী ও নুপুর স্যারকে পেয়ে গেলাম। শ্রদ্ধেয় স্যারদের সাথেও অনেক ছবি তুললাম। ক্যাম্পাস ঘুরে ঘুরে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায়ও ছবি তোলা হলো।
এরপর বাবুর্চির রান্না শেষ হলো। আমরা সবাই খাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিলাম। একটি রুমে সবাইকে বসতে দেওয়া হলো। কয়েকজন খাবার পরিবেশন করলো এবং বাকীরা একসাথে বসে খাওয়া শেষ করলাম। যারা পরিবেশনের দায়িত্বে ছিলো দ্বিতীয় ধাপে তাদেরকেও খাওয়ানো হলো।

কাচ্চি-বিরিয়ানি, খাঁসির মাংস, ডিম ভুনা, সালাদ খুব সুস্বাদু হয়েছিলো। এরপর কোমল পানীয় খাওয়া শেষে আমরা সবাই আমাদের স্মৃতি সম্বলিত ক্লাসরুমগুলো ঘুরে ঘুরে দেখলাম। শেষ বিকেলে এক বন্ধুর জন্মদিনের কেক কাটার মধ্যদিয়ে আমাদের অনুষ্ঠান শেষ হলো। যারা পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে আমাদের অনুষ্ঠানকে সফল করে তুলতে সহযোগিতা করেছে তাদেরকে ধন্যবাদ জানানো হলো।

তারপর সূর্য মামা পশ্চিম আকাশে হেলে পড়তে লাগলো। আধার ঘনিয়ে আসতে শুরু করলো। তখন প্রিয় বন্ধুদের বিদায় জানিয়ে সবাই নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে এলাম…।

লেখক: আলী আরমান রকি
সাংবাদিক, ও শিক্ষার্থী,
বাংলা বিভাগ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
ইমেইল:armaniu7272@gmail.com

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
error: Content is protected !!