• সোম. মার্চ ৮, ২০২১

অনুসন্ধানবার্তা

অজানাকে জানতে চোখ রাখুন

ধুনটে পরোকীয়ার জেরে স্কুল শিক্ষক স্বামীকে হত্যার দায়ে শিক্ষিকা স্ত্রী কারাগারে

Byonushondhanbarta

ফেব্রু ১৭, ২০২১
0 0
Read Time:5 Minute, 44 Second

ইমরান হোসেন ইমন, অনুসন্ধানবার্তা :

বগুড়ার ধুনটে পরোকীয়া প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে শহিদুল ইসলাম (৩৫) নামে এক স্কুল শিক্ষক স্বামীকে হত্যার দায়ে স্কুল শিক্ষিকা স্ত্রী সীমা আকতারকে (৩০) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারী) সীমা আকতার বগুড়ার আদালতে হাজির হয়ে স্বামী হত্যা মামলায় জামিনের আবেদন করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) বাদী পক্ষের আইনজীবি এ্যাড. টিএম আব্দুল মতিন এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সীমা আকতার ধুনট উপজেলার চালাপাড়া গ্রামের মৃত শাহজাহান তালুকদারের মেয়ে ও চালাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা।

মামলা ও স্থানীয়সূত্রে জানাগেছে, ধুনট উপজেলার চৌকিবাড়ী ইউনিয়নের রুদ্রবাড়িয়া গ্রামের মৃত আজমল হোসেন খানের ছেলে পিন্ডারহাটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শহিদুল ইসলামের সঙ্গে ২০১৪ সালের ২ ডিসেম্বর ধুনট সদর ইউনিয়নের চালাপাড়া গ্রামের মৃত শাহজাহান তালুকদারের মেয়ে স্কুল শিক্ষিকা সীমা আকতারের বিয়ে হয়।

কিন্তু বিয়ের আগে থেকেই সীমা আকতারের সঙ্গে মথুরাপুর ইউনিয়নের গোপালপুর খাদুলী গ্রামের মৃত রহমত উল্লাহ্র ছেলে খোরশেদ আলম বাবলুর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু সীমা আকতার তার প্রেমিককে রেখে পারিবারিভাবে রুদ্রবাড়িয়ার গ্রামের শিক্ষক শহিদুল ইসলামকে বিয়ে করে। কিন্তু বিয়ের পরও খোরশেদ আলমের সঙ্গে পরোকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে সীমা আকতার। একপর্যায়ে সীমাকে বিয়ে করতে চাপ দেয় প্রেমিক খোরশেদ।

একারনে সীমা তার স্বামীকে হত্যা করতে প্রেমিক খোরশেদ আলমের সঙ্গে পরিকল্পনা করে। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ি ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি দিবাগত রাতে প্রেমিক খোরশেদ আলম ও তার সহযোগি মথুরাপুর ইউনিয়নের প্রতাব খাদুলী গ্রামের সর্বহারা শফিউর রহমান জ্যোতির ছেলে রুবেল রুদ্রবাড়ি গ্রামের শিক্ষক শহিদুল ইমলামের ঘরের সিঁধ কেটে প্রবেশ করে জবাই করে হত্যা করে। এসময় সীমা তার স্বামীকে হত্যা করতে সহযোগিতা করে।

এঘটনায় পরদিন নিহতের ছোট ভাই সাজেদুল ইসলাম সাজু বাদী হয়ে শহিদুলের স্ত্রী সীমা আকতার, প্রেমিক খোরশেদ আলম ও সহযাগি রুবেল আহমেদের বিরুদ্ধে ধুনট থানায় মামলা (নং- জিআর-০৮/২০১৫) দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর ধুনট থানা পুলিশ ওই দিনই স্ত্রী সীমা আকতারকে গ্রেফতার করেন। পরবর্তীতে সীমা রাজ সাক্ষি হিসেবে জামিনে ছাড়া পায়। পরবর্তীতে মামলাটি বগুড়া সিআইডি পুলিশের কাছে হস্তান্তর হয়। মামলটির দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ১২ নভেম্বর বগুড়া সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার কাউসার সিকদার আদালতে সীমা আকতার, খোরশেদ আলম ও রুবেলের বিরুদ্ধে চার্জসীট দাখিল করেন।

গত মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারী) ওই মামলায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন সীমা আকতার। কিন্তু আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ওই মামলার অপর দুই আসামী খোরশেদ আলম ও রুবেল আহমেদ এখনও পলাতক রয়েছে।

আসামীদের মধ্যে রুবেল আহমেদের বাবা শফিউর রহমান জ্যোতি পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (সর্বহারা) উত্তরবঙ্গের কমান্ডার ছিলেন। ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল শেরপুরে চরপন্থীদলের দুই গ্রুপের বন্দুক যুদ্ধে নিহত হন তিনি।

বুধবার বাদী পক্ষের আইনজীবি এ্যাড. টিএম আব্দুল মতিন জানান, স্বামীকে হত্যা মামলায় স্ত্রী সীমা আকতার জামিনের আবেদন করলে আদালত নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এছাড়া মামলার অপর দুই আসামী এখনও পলাতক রয়েছে।

এবিষয়ে সিআইডি বগুড়া জেলার সহকারী পুলিশ সুপার হাসান শামীম ইকবাল বলেন, পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
error: Content is protected !!