• মঙ্গল. এপ্রি ২০, ২০২১

অনুসন্ধানবার্তা

অজানাকে জানতে চোখ রাখুন

ধুনটে প্রতারকের মামলায় ফেঁসে গেলেন চাকরি প্রত্যাশী!

Byঅনুসন্ধান বার্তা

মার্চ ১৪, ২০২১
0 0
Read Time:5 Minute, 24 Second

স্টাফ রিপোর্টার, অনুসন্ধানবার্তা :

দরিদ্র পরিবারের সন্তান শামীম রেজা। তার পরিবারের প্রায় সকল সদস্যই ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক। সেই রাজনীতির সুবাদে পরিচয় হয় বগুড়ার ধুনট উপজেলার গোপালনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সেলিম রেজার সঙ্গে। সময়টি ছিল ২০১৭ সালের।

তখন স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি সেলিম রেজা প্রলোভন দেখিয়ে শামীম রেজাকে পাশ^বর্তী কোনাগাঁতি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী পদে নিয়োগ দিতে ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।

তবে সেলিম রেজাকে কমিশন দেওয়ার মাধ্যমে সেই টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ধুনট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ধুনট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই খোকন।

কিন্তু দীর্ঘদিনেও শামীম রেজা চাকরি এবং টাকা কোনটাই পাননি। এমতাবস্থায় ভুক্তভোগি চাকরি প্রত্যাশী শামীম রেজার বড় ভাই আব্দুল হাই গত ৮ ফেব্রুয়ারী ধুনট উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই খোকনের বাসায় টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাকে মারধর সহ হুমকি প্রদর্শন করেন।

এঘটনায় চাকরি চাকরি প্রত্যাশী শামীম রেজার বড় ভাই আব্দুল হাই বাদী হয়ে ধুনট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ধুনট উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই খোকন ও গোপালনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি সেলিম রেজার বিরুদ্ধে ধুনট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু থানায় অভিযোগ দায়েরের পর থেকেই আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা সেলিম রেজা ও তার লোকজন।

এরই জের ধরে ১০ মার্চ সন্ধ্যার দিকে সেলিম রেজা ও তার লোকজন কোনাগাঁতি গ্রামে চাকরি প্রার্থীর ভাই আব্দুল হাইকে একা পেয়ে মারধর করতে থাকেন এবং তাকে সহ ধুনট উপজেলা চেয়ারম্যাননের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নিতে বলেন। কিন্তু তারা রাজি না হওয়ায় স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা সেলিম ও তাদের লোকজন চাকরি প্রার্থী শামীম রেজা ও তার ভাই আব্দুল হাইকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

এসময় স্থানীয় এলাকাবাসী ধাওয়া করে সেলিম রেজাকে গণধোলাই দিয়ে একটি বাড়িতে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখেন। পরে ধুনট থানা পুলিশ সংবাদ পেয়ে বিক্ষুদ্ধ জনতার জিম্মিদশা থেকে প্রতারক স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা সেলিমকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। কিন্তু পুলিশ ওই প্রতারক সেলিমকে থানায় নিয়ে গেলেও তাকে থানা হাজত থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে প্রতারক সেলিম রেজা বাদী হয়ে চাকরি প্রত্যাশীর বড় ভাই আব্দুল হাই, প্রতিবেশি ব্যবসায়ী লিখন মিয়া ও চাকরি প্রত্যাশীর দরিদ্র মা শাপলা খাতুনকে আসামী করে ধুনট থানায় মামলা দায়ের করেন।

এদিকে মিথ্যা মামলা দায়ের করায় রবিবার (১৪ মার্চ) সন্ধায় ধুনট মডেল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন চাকরি প্রত্যাশীর প্রতিবেশি ভাই লিখন মিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে লিখন মিয়া বলেন, প্রতারণার ফাঁদ ফেলে একজন গরীব মানুষকে নিঃস্ব করা হলেও তার কোন বিচার হয়নি। এমনকি টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি। অথচ তারা আগে বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ করা হলেও কোন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তারপরও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে গরীব মানুষেদের বিরুদ্ধে মামলা করে এবং পুলিশ দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে। তাই এসব বিষয়ে অধিকতর তদন্ত করে নিরাপরাধ ব্যক্তিদদের মুক্তি দিতে এবং দোষিদের গ্রেফতারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

তবে এবিষয়ে ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, চাকরির নামে টাকা দেওয়ার বিষয়টি আদালতে মামলা করতে হবে। তবে একজনকে বেধে রেখে নির্যাতন করা এটা অপরাধ। তাই ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
error: Content is protected !!