• বুধ. এপ্রি ২১, ২০২১

অনুসন্ধানবার্তা

অজানাকে জানতে চোখ রাখুন

ধুনট উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করলেন ভাইস চেয়ারম্যান ও ৯ ইউপি চেয়ারম্যান

Byonushondhanbarta

ফেব্রু ১৮, ২০২১
0 0
Read Time:6 Minute, 46 Second

ইমরান হোসেন ইমন, অনুসন্ধানবার্তা :

বগুড়ার ধুনট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ধুনট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই খোকনের বিরুদ্ধে সরকারী বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দকৃত টাকা ফেরত যাওয়া এবং সরকারী কয়েক কোটি টাকার উন্নয়নমুলক কাজ ব্যাহত হওয়ায় তার প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করেছেন ভাইস চেয়ারম্যান ও  ইউপি চেয়ারম্যান।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বগুড়া জেলা প্রশাসক বরাবর উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থার প্রস্তাব প্রেরন করেন তারা।

জানাগেছে, বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী ও মুজিববর্ষে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ধুনট উপজেলায় এডিপির কাজে ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা, জাইকা প্রকল্পে ৫০ লাখ টাকা, রাজস্ব খাতে ৫০ লাখ টাকা এবং ৫০০ মাতৃত্বকালীন ভাতা সহ টিআর, কাবিখা, কাবিটা, বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতা সহ আরো বিভিন্ন প্রকল্পে কয়েক কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

পদাধিকার বলে, ধুনট উপজেলা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন ধুনট উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল আব্দুল হাই খোকন। কিন্তু এসব প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়া স্বত্বেও প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য কোন পদক্ষেপ গ্রহন ও স্বাক্ষর করে নাই প্রকল্পের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই খোকন। ফলে প্রকল্পগুলো বাতিল হওয়ার পথে।

এছাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই খোকনের দায়িত্ব অবহেলা, স্বেচ্ছাচারিতা ও অসহযোগির জন্য ধুনট উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মসজিদ ও মন্দির সংস্কারের বরাদ্দকৃত ৩০ লাখ টাকা ইতিপূর্বে ফেরত গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে সরকারী বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দকৃত টাকা ফেরত যাওয়া এবং সরকারী উন্নয়নমুলক কাজ ব্যাহত হওয়ায় জণমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং সকল ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের তোপের মুখেও পড়তে হয়েছে। এমতাবস্থায় বিষয়গুলি নিয়ে ১০টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগণ উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্নয় সভায় বার বার উত্থাপন করেছেন।

কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই খোকন কোন কারন ছাড়াই পরপর তিনটি সমন্নয়ন সভার মিটিংয়ে উপস্থিত হননি। যার কারনে উপজেলা পরিষদের সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

এসব কারনে বৃহস্পতিবার ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে নিমগাছী, এলাঙ্গী, চিকাশী, গোসাইবাড়ী, ভান্ডারবাড়ী, ধুনট সদর, গোপালনগর, মথুরাপুর ও চৌকিবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান স্বাক্ষর করে ধুনট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই খোকনের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করেন।

এলাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও এলাঙ্গী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ তারেক হেলাল এতথ্য নিশ্চিত করে জানান, উপজেলা পরিষদের মেনুয়্যাল বইতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, যদি উপজেলা চেয়ারম্যান বা অন্য কোন সদস্য কারণ ছাড়া পরপর তিনটি মিটিংয়ে অনুপস্থিত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।

একারনে উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করে এবং ভাইস চেয়ারম্যান মহসীন আলমকে প্যানেল চেয়ারম্যান নিযুক্ত করে সরকারী উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য বগুড়া প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনর রশিদ সেলিম জানান, সরকারী প্রতিটি প্রকল্পেরই অর্ধেক ভাগ চান ধুনট উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হাই খোকন। সম্প্রতি তিনি ভিজিডি, বয়স্ক, বিধবা, মাতৃত্বাকালী ভাতা সহ ভূমিহীনদের ঘরে বরাদ্দেরও ৩০ ভাগ কর্তন করে তা স্বচ্ছল ও ধনী ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেছেন।

তার এসব অনিয়ম, দূর্ণীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, দায়িত্ব অবহেলা ও সরকারী উন্নয়নমুল কাজে বাধাগ্রস্থ করায় উপজেলা চেয়ারম্যান খোকনের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করে একজন ভাইস চেয়ারম্যান ও ৯ জন ইউপি চেয়ারম্যান স্বাক্ষর করেছেন।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব অবহেলা ও স্বেচ্ছাচারিতার কারনে সরকারী কয়েক কোটি টাকার প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। উপজেলা চেয়ারম্যান কোন মিটিংয়ে উপস্থিত থাকেন না। তার দায়িত্ব অবহেলা ও স্বেচ্ছাচারিতার কারনে সরকারী উন্নয়মুলক কাজ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে এবং সরকারী বরাদ্দকৃত টাকা ফেরত যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এছাড়া বয়স্ক, বিধবা ও মাতৃত্বকালীন ভাতা সহ উপজেলা পরিষদের সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এসব কারনে ইউপি চেয়ারম্যানগণ ক্ষুদ্ধ হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করেছেন। এসব বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিবেন।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
error: Content is protected !!