• রবি. ফেব্রু ২৮, ২০২১

অনুসন্ধানবার্তা

অজানাকে জানতে চোখ রাখুন

বগুড়ার ধুনটে ফসলি জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায় : ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কৃষক

Byঅনুসন্ধান বার্তা

ডিসে ৫, ২০২০
0 0
Read Time:5 Minute, 59 Second

ইমরান হোসেন ইমন, অনুসন্ধান বার্তা :

বগুড়ার ধুনট উপজেলার চৌকিবাড়ী ইউনিয়নের চৌকিবাড়ী পশ্চিমপাড়া এলাকায় একাধিক খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) দিয়ে শত শত বিঘা ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, এতে জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে উর্বরতা হারিয়ে অনাবাদি হয়ে পড়ছে আবাদি জমি। কমতে শুরু করবে ফসলের উৎপাদনও।

ইটভাটার মালিকরা কৃষকদের প্রলোভন দেখিয়ে দেদারছে খননযন্ত্র দিয়ে এসব ফসলি জমির মাটি কেটে নিচ্ছে। এরপরও স্থানীয় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরা।

শনিবার চৌকিবাড়ী পশ্চিমপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ধুনটের চান্দিয়ার গ্রামের মাটি ব্যবসায়ী আহসান ও কাজিপুরের পাইকপাড়া গ্রামের জিয়া সহ কয়েক ব্যক্তি চৌকিবাড়ী গ্রামে ৪/৫টি ভেকু মেশিন দিয়ে সরিষা ক্ষেত ও ধানী জমির মাটি প্রায় ৬/৭ ফুট গভীর করে কেটে শত শত ট্রাক দিয়ে বিভিন্ন ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এতে পাশের জমির মিলন, বেল্লাল ও তোতা মিয়া সহ ৭-৮ জন কৃষকের ফসলি জমি ভাঙনের মুখে পড়েছে। তারা স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনকে জানানোর পরও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন। এতে বাধা দিতে গেলে মাটি ব্যবসায়ীরা উল্টো বিভিন্ন হুমকি দেন। জমির মালিকরা না বুঝেই ইটভাটার মালিকদের কাছে মাটি বিক্রি করছেন। এতে জমির উর্বরতা শক্তি কমতে শুরু করলেও এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের সতর্ক করা হচ্ছে না।

চান্দিয়ার গ্রামের মাটি ব্যবসায়ী আহসান ও পাইকপাড়া গ্রামের জিয়া ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আমার মতো ধুনটের শত শত ব্যবসায়ী ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছে। তবে গভীর করে মাটি কেটে নেওয়ায় পাশের জমির মালিকের ক্ষতির কথাও স্বীকার করেন তারা। এসব মাটি তারা কাজিপুরের সোনামুখি মেসার্স এস.ভি.সি ব্রিকসের মালিক হাসান আলী, বেলকুচি ইটভাটার টগর ও চালাপাড়ার হায়দায়র আলী হিন্দোল সহ বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করছেন।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ধুনটের এক ইটভাটা মালিক জানান, ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি ইটভাটায় বিক্রি করা মানে ওই কৃষকের ক্ষতি হওয়া। তিনি আরো জানান, ধুনট উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে চলমান প্রায় ৩৫/৪০টি ইটভাটা রয়েছে। আর এসব ভাটার ইট তৈরি করার জন্য ধুনট উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমির মাটিই সংগ্রহ করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় প্রশাসনকে তারা ম্যানেজ করেই ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নিচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেন।

চৌকিবাড়ী গ্রামের কৃষক আফসার আলী জানান, বেশি টাকা পাওয়ার কারণে তার দুই বিঘা ফসলি জমির মাটি বিক্রি করে দিয়েছেন। পরে ওই জমিতে আগের মতো আর ফসল হবে কি-না তা তিনি জানেন না।

চৌকিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, জমির মূল উর্বরতা শক্তি থাকে মাটির উপরিভাগে। আর এ মাটি (টপ সয়েল) কেটে নিলে তার উর্বরতা শক্তি সঞ্চয় করতে সময় লাগে প্রায় ১০/১২ বছর। ইটভাটা মালিকেরা লোভ দেখিয়ে এক কৃষকের থেকে জমির মাটি কিনতে পারলেই, অন্য কৃষককেও বাধ্য হতে হয় তাদের কাছে মাটি বিক্রি করতে।

তিনি আরো বলেন, ধুনটের মতো সারাদেশেই যেভাবে ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে নেওয়া হচ্ছে, এভাবে চলতে থাকলে আগামী ১০-১২ বছর পর কৃষি জমি অনাবাদি হয়ে দেশে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে। তাই ফসলী জমির মাটি কেটে নিওয়ার বিষয়ে একাধিকবার প্রশাসনকে অবগত করলেও কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিদুল হক জানান, সরকারি নিয়ম না মেনেই ফসলী জমিতে অনেক ইটভাটা তৈরি হয়েছে। আর এসব ভাটার জন্য মাটির প্রয়োজন। তাই ধুনট উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের জমির টপ সয়েল তারা নিচ্ছে। এতে ফসলী জমি ও কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। আর এ টপ সয়েল কেটে নেওয়া বন্ধ করার ক্ষমতা আমাদের নেই।

এবিষয়ে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, ফসলী জমির মাটি কেটে নেওয়ার বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনেছি। এবিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
error: Content is protected !!