• রবি. মার্চ ৭, ২০২১

অনুসন্ধানবার্তা

অজানাকে জানতে চোখ রাখুন

বগুড়ার শিবগঞ্জে ধর্ষণে সাত মাসের অন্তঃস্বত্বা প্রতিবন্ধী নারী : গ্রেফতার ১

Byঅনুসন্ধান বার্তা

জানু ৭, ২০২১
0 0
Read Time:5 Minute, 41 Second

শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধি :

বগুড়ার শিবগঞ্জের পল্লীতে ধর্ষণে এক প্রতিবন্ধী বিধবা নারী (২৫) এখন সাত মাসের অন্তঃস্বত্বা। তবে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে উঠেপড়ে লেগেছে প্রভাবশালী স্থানীয় এক ইউপি সদস্য।

এবিষয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়ার কারনে ধর্ষিতার বাবা-মাকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করছে ওই বখাটেসহ এলাকার প্রভাবশালী ইউপি সদস্য। এতে ভয়, আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে ধর্ষিতা ও তার বাবা-মা।

এঘটনায় মামলা দায়েরের পর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ধর্ষক বাদল মিয়াকে বগুড়ার সদর থানাধীন মাটিডালি এলাকা থেকে আটক করেছে।

জানা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের গনকপাড়া গ্রামের বাকি উল্লার ছেলে আফজাল হোসেনের সাথে সাত বছর আগে ওই প্রতিবন্ধী নারীর বিয়ে হয়। বিয়ের সাড়ে ৫ বছরের মধ্যে তাদের দুটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। ওই দম্পত্তি সুখে শান্তিতে ঘর সংসার করলেও গত দেড় বছর পূর্বে হঠাৎ করেই ওই প্রতিবন্ধীর স্বামী আফজাল হোসেনের মৃত্যু।

এদিকে স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে ওই প্রতিবন্ধী নারী দু’সন্তানকে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে অবস্থান করছিলো। মানুষের কাছ থেকে চেয়ে চিন্তে ও ভিক্ষা করে সন্তানদের নিয়ে কষ্ট করে দিনাতিপাত করছিলো ওই প্রতিবন্ধী নারী।

এই সুযোগে তার উপর কু-দৃষ্টি দেয় একই এলাকার ঘর জামাই বাদল মিয়া। এর আগেও বাদল মিয়া একাধিক বিয়েও করেছে।

লম্পট বাদল মিয়া গাইবান্ধা জেলার গবিন্দগঞ্জ উপজেলার বাসাপাড়া গ্রামের রহিম উদ্দিনের ছেলে। বাদল মিয়ার বর্তমান স্ত্রী বগুড়া শহরের বিভিন্ন বাসা বাড়িতে ঝি-এর কাজ করে। স্ত্রী শহরে থাকায় গ্রামের বাড়িতে একাই থাকতো বাদল। মাঝে মধ্যে সে প্রতিবন্ধী বিধবা নারীর বাড়িতে যাতায়াত করতো।

এই সুযোগে লম্পট বাদল ভয়-ভীতি দেখিয়ে ও সরলতার সুযোগে প্রায়ই প্রতিবন্ধী ওই নারীকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ফলে প্রতিবন্ধী নারী অন্তঃস্বত্বা হয়ে পড়লে ভয় পেয়ে যায় লম্পট বাদল। ভয়ে আশ্রয় নেয় গনকপাড়া গ্রামের বিষা মিয়ার ছেলে প্রভাশালী ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলামের কাছে। মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ইউপি সদস্য জাহিদুল ওই প্রতিবন্ধী নারীকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে ঘটনাটি মিমাংসা করার চেষ্টা চালায়।

এদিকে প্রতিবন্ধী নারীর গর্ভের সময় বাড়তে থাকলে তার চেহারায় পরিবর্তন আসার ফলে সন্দেহ হয় এলাকার সাধারণ মানুষের। পরে প্রতিবেশিরা তাকে ডাক্তারী পরিক্ষা করালে বিষয়টি জানাজানি হয়। ডাক্তারী পরিক্ষায় জানা যায় বিধবা প্রতিবন্ধী ওই নারী সাত মাসের অন্তঃস্বত্বা।

অবস্থা বেগতিক হলে ধর্ষক বাদল আবার আশ্রয় নেয় এলাকার প্রভাশালী ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলামের কাছে। পরে জাহিদুল ধর্ষককে এলাকা থেকে পালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলেও এলাকার সাধারণ মানুষের তোপের মুখে লোক দেখানো গ্রাম্য শালিসের আয়োজন করেন।

ওই শালিসে জাহিদুলের বুদ্ধিতে ধর্ষক বাদল টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে ওই প্রতিবন্ধী’র মা নূর জাহান বেগম বলেন, আমি থানায় একটা অভিযোগ দায়ের করেছি। আমি অভিযোগ দেওয়ার পর থেকেই ইউপি সদস্য জাহিদুলসহ অজ্ঞাত কিছু লোকজন আমাকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আমি ভয়ে বাড়ির বাইরে যাইনা।

এ বিষয়ে ধর্ষনের শিকার প্রতিবন্ধী নারী বলেন, বাদল আমাকে ভয়-ভীতি দেখিয়েছে, আমি কাউকে কিছু বল্লে সে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলবে।

তবে এবিষয়ে ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ করেছে এটা সত্যি। সে বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃস্বত্বা। আমি একটা বিচারের ব্যবস্থা করেছিলাম কিন্তু বিচারের দিন বাদল পালিয়ে গেছে। আইনের আশ্রয় নেওয়ার প্রসঙ্গ আসলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ এসএম বদিউজ্জামান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর, ধর্ষককে আটক করা হয়েছে এবং মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
error: Content is protected !!