• মঙ্গল. এপ্রি ২০, ২০২১

অনুসন্ধানবার্তা

অজানাকে জানতে চোখ রাখুন

বগুড়ায় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ছাত্রলীগ নেতা তাকবিরের মৃত্যু

Byঅনুসন্ধান বার্তা

মার্চ ১৬, ২০২১
0 0
Read Time:5 Minute, 19 Second

বগুড়া প্রতিনিধি :

বগুড়ায় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ও ছুরিকাঘাতে আহত জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক তাকবির ইসলাম খান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) বিকাল ৩টার দিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে মারা যান তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শজিমেকের উপ পরিচালক ডাঃ আব্দুল ওয়াদুদ।

ডাঃ ওয়াদুদ জানান, গত ১১ মার্চ রাতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকবিরকে ভর্তি করানো হয়। তার শরীরে একাধিক স্থানে জখমের চিহ্ন ছিল। মূলত অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, হার্টের সমস্যা এবং বুকে আঘাতের কারণে ভর্তির পর থেকে তার অবস্থা খারাপের দিকে যেতে থাকে। পরে অবস্থার অবনতি হলে সোমবার সন্ধ্যায় তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মঙ্গলবার বিকাল ৩টা ৫ মিনিটে তাকবির মারা যান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ছাত্রলীগ নেতা জানায়, গত বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) দুপুরে বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলায় ছাত্রলীগের একটি সমাবেশে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে বগুড়া শহরের সাতমাথা এলাকায় ওইদিন রাতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়।

এ সংঘর্ষে দুই গ্রুপের অন্তত ৫ জন আহত হন। আহতদের সবাইকে চিকিৎসার জন্য শজিমেকে ভর্তি করানো হয়। তবে আহতদের মধ্যে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাকবির ইসলাম খানের অবস্থা সবচেয়ে গুরুতর ছিল।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাকবির ইসলামের সঙ্গে থাকা তার সমর্থকদের অভিযোগ ছিল, আবদুর রউফের নেতৃত্বে সাতমাথায় তাকবিরসহ অন্যদের ওপর হামলা চালানো হয়।

তখন আবদুর রউফ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছিল, তুচ্ছ ঘটনার জেরে তাকবিরের নেতৃত্বে তার সমর্থকরা আমার এবং কয়েকজন নেতাকর্মীকে ধাওয়া করেন। এতে হাতাহাতির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাঁধে। সামনে জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন। আমি প্রত্যাশিত পদ যাতে না পাই, এ জন্যই আমার ওপর হামলার দোষ চাপানো হচ্ছে।

এ ঘটনার ৩ দিন পর ১৩ মার্চ দুই গ্রুপের পক্ষ থেকে বগুড়া সদর থানায় পাল্টাপাল্টি পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করা হয়। জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাকবীর ইসলাম খানের মা আফরোজা ইসলাম বাদী হয়ে আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনের নামে মামলা করেন।

অপরদিকে আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ হাসান বাদী হয়ে তাকবির ইসলাম খানসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২০ থেকে ২৫ অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে মামলা করেন।

তাকবীর ইসলামের মা আফরোজা ইসলাম করা মামলায় নাম উল্লেখ করা অন্য আসামিরা হলেন জাহিদ হাসান (২৬), আনোয়ার হোসেন (২৭), মো. তারেক (২৭), বিধান চন্দ্র মোহন্ত (২৭), নিশাদ (২১) ও আরমান (২২)।

অপরদিকে, আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য সোহাগ হাসানের দায়ের করা মামলায় নাম উল্লেখিত অন্য আসামীরা হলেন- তাকবির ইসলাম খান, তোফায়েল আহমেদ, হাসিবুল হাসান শান্ত, আব্দুল্লাহ ঈমন, জয় কুমার দাস, শাহাদত জামান সঞ্জয়, সামিউল পরান সজল, সিজান রহমান, ফেরদৌস আলম সাফি, মাহবুবুল সাফিন, হাবিবুর রহমান ও মেহেদী হাসান। আসামীদের মধ্যে তাকবির ইসলাম খান আজ মঙ্গলবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন।

এ ঘটনায় সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে। তাকদিরের লাশ ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleepy
Sleepy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %
error: Content is protected !!